প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলি সেনা পুনর্মোতায়েন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘তারা সেখানে আপনাদের চায় না। আপনাদের পুনর্মোতায়েন করা উচিত।’ একই ধরনের বার্তা তিনি লেবাননের ক্ষেত্রেও দিয়েছেন।
বর্তমানে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবানন ও দক্ষিণ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান করছে। ইসরাইলের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো ভবিষ্যৎ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে ইসরাইল সরকারের একাংশ এসব এলাকার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে। এমনকি কেউ কেউ সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের প্রস্তাবও তুলেছেন।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ইসরাইলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই ফোনালাপ হয় তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার বৈঠকের একদিন পর। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন, নেতানিয়াহু প্রশাসন প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে এখনো আগ্রহী নয়।
এই ছাড়ের মধ্যে রয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার যে অঞ্চলগুলো আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিক্ষোভ এবং আইডিএফের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
এদিকে মঙ্গলবার রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের দুটি 'পাইলট জোন' থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে এখনো ওই দুটি এলাকা থেকে সেনা সরায়নি আইডিএফ। লেবানন সরকার দ্রুত সেনা প্রত্যাহার শুরু এবং পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইল বলছে, ওই এলাকাগুলোতে হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র বা সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
লেবাননের পক্ষের দাবি, এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হওয়া উচিত।
হোয়াইট হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতাও তারা অস্বীকার করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার একজন প্রধান সমর্থক বলেও উল্লেখ করেন।
তবে নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে নেতানিয়াহু সিরিয়া বা লেবানন থেকে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আহ্বান নেতানিয়াহুর ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ালেও নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে ইসরাইলের অবস্থানে দ্রুত কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।