ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের সংকট শুধু ফারাক্কা নয়, নেতৃত্ব সংস্কারের গুরুত্ব অনুধাবনেও ব্যর্থ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী। তাঁর মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট কেবল আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন বা ফারাক্কা ইস্যু নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রকৃত সংস্কারের গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতাই দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও দক্ষতাভিত্তিক জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণ ঘটলেও তা দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে সমানতালে এগোয়নি।

নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান, কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা কেন্দ্রিক প্রচলিত কাঠামো বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণকে শ্রমবাজারের উপযোগী করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, একদিকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনো তৈরি পোশাক খাত ও অদক্ষ বিদেশগামী শ্রমশক্তির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, অন্যদিকে নতুন শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করেই ধারাবাহিকভাবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ, উদ্ভাবনী ও কর্মসংস্থানমুখী মানবসম্পদ গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব দেশের তরুণ সমাজকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি পরীক্ষাকে ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত শিক্ষা ব্যবস্থা ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের দাবির বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, অন্যায্য সিদ্ধান্ত ও অমানবিক চাপের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার প্রতিফলন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী হয়তো ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে পারে। তবুও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নে তারা আপস করেনি, যা বাংলাদেশের তরুণ সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার নতুন দিক নির্দেশ করে।

তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, দক্ষতা-নির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের হাতেই নিহিত। তাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদ দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে শিক্ষা সংস্কার, কর্মসংস্থান এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাষ্ট্রীয় নীতি ও নেতৃত্বের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।