ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে আন্তর্জাতিক মানের আইন প্রণয়ন করল বাংলাদেশ

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আইনগত কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে বাংলাদেশ। সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-কে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষ্য, অপরাধী চক্রের পরিবর্তনশীল কৌশল মোকাবিলায় নতুন আইনটি ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ, কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত আইনটি নিয়ে জাতীয় অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন আর শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জটিল আন্তঃদেশীয় অপরাধ। সে বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নতুন আইনে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসী চোরাচালান দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনটিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘নন-পানিশমেন্ট’ নীতিও বজায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইনটির প্রণয়ন প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রধান বিধানসমূহ তুলে ধরেন। পরে আইনটির বাস্তবায়ন কৌশল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে শুধু কঠোর আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং এর কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন আইনটি সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারকে আরও সুসংহত করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।