প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:২৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের সাহিত্যভুবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ‘মাল্যবান’ এবার নতুন ব্যাখ্যায় উঠে আসছে মঞ্চে। কবি ও কথাসাহিত্যিক জীবনানন্দ দাশের এই মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস অবলম্বনে থিয়েটার দল শূন্য প্রযোজনা করেছে নাটক ‘সম্+সার’, যার উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে।
১৯৭০ সালে, জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ‘মাল্যবান’ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি। উপন্যাসটি মাল্যবান ও তার স্ত্রী উৎপলার দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা, মানসিক দূরত্ব, নিঃসঙ্গতা এবং অস্তিত্বগত সংকটকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে। দীর্ঘদিন ধরেই সাহিত্য সমালোচকদের একটি অংশ মনে করে আসছেন, এতে লেখকের ব্যক্তিজীবনের প্রতিফলন রয়েছে। বিশেষত, তাঁর স্ত্রী লাবণ্য দাশের সঙ্গে সম্পর্কের কিছু অনুষঙ্গ এই উপন্যাসে আত্মজৈবনিক মাত্রা পেয়েছে বলেও মত রয়েছে।
তবে মঞ্চরূপে ‘সম্+সার’ সেই পাঠকে নতুনভাবে দেখতে চায়। নাটকটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, প্রয়োগ ভাবনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন খন্দকার রাকিবুল হক। তাঁর ভাষায়, এই প্রযোজনা জীবনানন্দের ব্যক্তিজীবনের পুনর্নির্মাণ নয়, বরং তাঁর সৃষ্টিশীল ভাবনার শিল্পিত অনুসন্ধান।
রাকিবুল হক বলেন, ‘উপন্যাসে গল্পটি মূলত মাল্যবানের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু নাটকে আমরা স্বামী ও স্ত্রীর অবস্থানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছি। এটি কোনো পক্ষকে দোষারোপের গল্প নয়, বরং সম্পর্কের ভেতরের জটিলতা ও মানবিক দায়বোধের অনুসন্ধান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দর্শক নারী-পুরুষের সম্পর্কের দার্শনিক ও মানসিক প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবুক। এই প্রযোজনা উপলব্ধি, আত্মসচেতনতা এবং মানবিক পরিপক্বতার প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে আসে।’
‘সম্+সার’-এ মাল্যবান চরিত্রে অভিনয় করছেন শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী এবং উৎপলার চরিত্রে যাজ্ঞোসীনি মৌ। মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন ফজলে রাব্বি সুকর্নো। আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপণে রয়েছেন অম্লান বিশ্বাস। পোশাক পরিকল্পনায় কাজ করেছেন রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা ও যাজ্ঞোসীনি মৌ। এছাড়া প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা এবং নির্দেশকের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন মারজান রাইসা।
নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ১৭ জুলাই, যথাক্রমে বিকেল ৫টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একই ভেন্যুতে।
বাংলাদেশের সমকালীন নাট্যচর্চায় বিশ্বসাহিত্য ও দেশীয় সাহিত্যকর্মের নতুন মঞ্চভাষা নির্মাণের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ‘সম্+সার’ সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে পারে। জীবনানন্দ দাশের বহুল আলোচিত উপন্যাসকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করার এই প্রয়াস দর্শকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে এক ভিন্ন নাট্য-অভিজ্ঞতা।