প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) রিচার্ড মার্টেলকে সিনেটে নিয়োগ দিয়ে দেশটির সংসদীয় রাজনীতিতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও কানাডার ইতিহাসে এর নজির রয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রথম দফায় সিনেটে নতুন সদস্য নিয়োগের ঘোষণা দেন মার্ক কার্নি। সেই তালিকায় রিচার্ড মার্টেলের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি হাউস অব কমন্সে তার আসন ছেড়ে সিনেটে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে তার নির্বাচনী আসনটি শূন্য হয়েছে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির জন্য আসনটি জয়ের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে কার্নির নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে চারজন সাবেক কনজারভেটিভ এমপি লিবারেল পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে রিচার্ড মার্টেলের ঘটনা ভিন্ন। তিনি দল পরিবর্তন না করেই এমপির পদ থেকে সরে গিয়ে সিনেটে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।
প্রাথমিকভাবে তিনি অ-সম্পৃক্ত (নন-অ্যাফিলিয়েটেড) সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও কানাডার সিনেটে কনজারভেটিভ সদস্যদের একটি পৃথক ককাস রয়েছে।
এ নিয়োগ নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিয়েভর কোনো আপত্তি জানাননি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্টেলকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্টেল সিনেটে জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, নাগরিকদের আয় বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সমাজ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
কানাডার কনফেডারেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি দেশটির সংসদের দুই কক্ষ, হাউস অব কমন্স ও সিনেটে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাদের অধিকাংশই একই রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে সিনেটে নিয়োগ পেয়েছেন।
ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, একজন প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক কোনো এমপিকে সিনেটে নিয়োগ দিয়েছেন। তাও অধিকাংশ ঘটনায় এমপির দায়িত্ব ছাড়ার পর সিনেটে যোগ দেওয়ার মধ্যে কয়েক বছরের ব্যবধান ছিল।
সে বিবেচনায় রিচার্ড মার্টেলের নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বিরোধী দলের একজন কর্মরত এমপি থাকা অবস্থায় ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে সরাসরি হাউস অব কমন্স থেকে সিনেটে মনোনীত হয়েছেন, যা কানাডার সংসদীয় ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।