এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:২১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

চীনের অর্থনীতিতে গতি কমেছে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে চীনের অর্থনীতিতেও। অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি চলতি বছরের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে। প্রথম প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। ফলে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে অর্থনীতির গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে চীন তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে। ১৯৯১ সালের পর এটিই দেশটির সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা। দ্বিতীয় প্রান্তিকের পরিসংখ্যান সেই লক্ষ্য অর্জন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা চীনের শিল্প ও রপ্তানি খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে ভোক্তা চাহিদা প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও চাপে রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনের নতুন আবাসনের দাম আরও কমেছে, যা আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রতিফলন। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। খুচরা বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুনে দেশটির রপ্তানি ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইজের বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইপ বিবিসিকে বলেন, জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যের চাপ সামাল দিতে চীনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় উৎপাদন ব্যয়ের অতিরিক্ত চাপ পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি চীনের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। জুন মাসের শুল্কসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের জন্য সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চীনের প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণও দেশটির রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করছে। প্রথমবারের মতো চীনের মাসিক গাড়ি রপ্তানির সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা এই খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতিরই ইঙ্গিত বহন করে।

তবে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতার মধ্যে চীনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা।