প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১০:০৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস, সামরিক হামলার তুলনায় সময় বেশি লাগলেও অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে ইরানের জন্য আরও কার্যকর হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের তেল বাণিজ্য, ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা ও অস্ত্র সংগ্রহের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের নীতি বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ব্যক্তি, জাহাজ ও উড়োজাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের অর্থনীতি গভীর সংকটে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে গ্যাসোলিন সংকট দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তারা বলছেন, আর্থিক সংকটের কারণে ইরান তাদের যোদ্ধাদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে এবং দেশটির ব্যাংকিং খাতেও অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
টানা ১৩ দিনের সামরিক হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত বোমাবর্ষণ স্থগিত রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ দাবি নাকচ করেছেন। বর্তমানে ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমানকে সীমিত কর্তৃত্ব এবং কিছু রাজস্ব আদায়ের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরেও মতভেদ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সামরিক হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টির বিনিময়ে ইরানকে ছাড় দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরানকে তাদের অবশিষ্ট পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কেও সমঝোতায় আসতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সময় লাগবে। সামরিক অভিযানের মতো তাৎক্ষণিক ফল এতে পাওয়া যাবে না। এর রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বা মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখন দুটি পথই খোলা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে, আর একই সঙ্গে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে আরও দুর্বল করার কৌশলও অব্যাহত থাকবে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা সহজ হবে না। তাদের মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই ইরানের তেল খাত থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।