প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৪৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার এই মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সেবায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান বিমান চলাচল বাজার হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সরকার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে যাবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিকিউরিপোর্ট বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা চলতি সপ্তাহেই ঢাকা সফরে আসতে পারেন। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, টার্মিনালটি চালুর প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক সিকিউরিপোর্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশের সরকারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বাংলাদেশে তারা মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা, যাত্রী তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থায়নে নির্মিত এই প্রকল্পে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শুরু থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। প্রকল্পের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে জাপান। ফলে পরিচালনাগত অংশীদার হিসেবেও জাপানি কনসোর্টিয়ামকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ একাধিক জাপানি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জাপানি কনসোর্টিয়াম চলতি মাসের শেষ দিকে তাদের দরপত্র জমা দেবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডানাটা তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা, ক্যাটারিং ও ভ্রমণসেবা পরিচালনা করে থাকে। এর আগে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও একই খাতে আগ্রহ দেখিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির সক্ষমতার প্রতিফলন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে টার্মিনালটির সফল পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করেছে বাংলাদেশ, যা ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে। টার্মিনালটি চালু হলে দেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, কার্গো সক্ষমতা এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।