এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব ঠেকাতে অর্থায়ন বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কয়েকশ কোটি ডলারের নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল, মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মধ্য আমেরিকার পুরোনো সমুদ্রতলদেশীয় টেলিযোগাযোগ ক্যাবল প্রতিস্থাপনে ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মূল লক্ষ্য হলো ওই অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো থেকে চীনের প্রভাব কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এছাড়া পশ্চিম গোলার্ধ, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের নতুন কর্মসূচিও বিবেচনায় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথিতে বলা হয়েছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই পানামা খালের দুই প্রান্তের বন্দরে চীনের মালিকানা, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ এবং লাতিন আমেরিকার টেলিযোগাযোগ খাতে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, চীনের অনেক প্রকল্প প্রথমদিকে কম ব্যয়বহুল মনে হলেও পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও গোপন খরচের কারণে সেগুলো আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় বেসরকারি টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা দেওয়া হবে। এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, হাইতি ও নিকারাগুয়াসংলগ্ন সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে নিকারাগুয়ার সরকারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

অভ্যন্তরীণ নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা ও বেলিজে নিরাপত্তা কার্যক্রম কেন্দ্র স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সাইবার প্ল্যাটফর্মে চীনের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ এবং ইকুয়েডর, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, প্যারাগুয়ে, পেরু ও উরুগুয়েকে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রয়েছে।

এছাড়া দালাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচনকে ঘিরে চীনের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা, নিরাপদ যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, চীনের মহাকাশ কর্মসূচির আন্তর্জাতিক সমর্থন কমানো এবং নজরদারি ও সেন্সরশিপ প্রযুক্তি রপ্তানিতে জড়িত চীনা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম প্রতিহত করার উদ্যোগও আলোচনায় রয়েছে।

মজার বিষয় হলো, এসব কর্মসূচির অনেকগুলোই গত বছর ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময় ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ব্যয় কমানোর উদ্যোগে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয় এবং বিশ্বজুড়ে বহু কূটনৈতিক পদ বিলুপ্ত হওয়ায় চীনবিরোধী বেশ কয়েকটি প্রকল্পও থমকে যায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থায়ন বাড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের আগ্রহ রয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, চীনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় বাইডেন প্রশাসনও ২০২৪ অর্থবছরে ৫০টির বেশি প্রকল্পে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছিল। যদিও ওই সময় অনুমোদিত বেশ কয়েকটি প্রকল্প এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর বৈঠকও দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব সীমিত করতে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো, এই দুইমুখী নীতিই এখন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করছে ট্রাম্প প্রশাসন।