এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠকে ইরান ইস্যুতে জোর, আলোচনায় থাকবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শান্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে ইরানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকের এজেন্ডায় একাধিক বিষয় থাকলেও ইরান ইস্যুই প্রধান গুরুত্ব পাবে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি সম্প্রসারণই তাদের লক্ষ্য।

চলতি মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি হবে নেতানিয়াহুর অষ্টম বৈঠক। গত ফেব্রুয়ারির পর এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছেন দুই নেতা। ফেব্রুয়ারির ওই বৈঠকের পরই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলা অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেয়নি। মার্কিন হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন। তেহরানও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও আর নতুন কোনো হামলা চালাবে না। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের যেকোনো হামলার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্যও সামনে এসেছে। জুন মাসে দুই নেতার মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপের খবর প্রকাশ পায়। পরে ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেন যে, ওই আলাপচারিতায় তিনি নেতানিয়াহুর কিছু অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।

এদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজায় একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া গত ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে নিজেদের সেনা পুনর্মোতায়েনের ঘোষণাও দেয় ইসরায়েল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রদর্শন নেতানিয়াহুর জন্য কেবল কূটনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে তিনি চাপের মুখে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।