ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৪৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিট খারিজ করল হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে ঘিরে চলমান আইনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত, ফলে আইনটির অধীনে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় আপাতত কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বাধা থাকছে না।

মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। আদালত আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন।

রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ। তার আবেদনে বলা হয়, ১৯৭৩ সালের আইনটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রচলিত ও কার্যকারিতাহীন এবং অতীতে এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আইনটি বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশনা চেয়েছিলেন।

রিটের পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত পাকিস্তানি সামরিক সদস্যদের বিচারের উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে তাদের পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তনের পর দেশীয় সহযোগীদের বিচারের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করা হয়, যা পরবর্তীতে বাতিল হয়।

আইনজীবী মহসিন রশিদ আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালে আইনটির সংশোধনের মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তার অভিযোগ, সে সময় বিচার প্রক্রিয়ায় প্রচলিত কিছু ফৌজদারি ও সাক্ষ্য আইনের বিধান শিথিল করা হয়েছিল। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার প্রকাশিত বই এবং সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার ভিন্নমত পোষণকারী রায়ের উল্লেখ করে বিচারিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে নতুন করে সংশোধনী আনা এবং বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টিও তার যুক্তির অংশ ছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো সরকারের হাতে এ ধরনের আইন অপব্যবহারের সুযোগ থাকলে ভবিষ্যতেও তা নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এবং আইন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের অভিমত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আইনি অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে এ রায়ের মাধ্যমে আদালত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নকে প্রাথমিক পর্যায়েই নাকচ করে দিয়েছে।