খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ব্রাজিল বধের অন্যতম নায়ক নাইল্যান্ড

নাইল্যান্ডের অদম্য প্রাচীরে থেমে গেল ব্রাজিল, নরওয়ের ইতিহাসে নেপথ্যের মহানায়ক

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। তার দুর্দান্ত সব সেভ না থাকলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয় তাদের। কিন্তু ব্রুনো গুইমারাসের নেওয়া শট অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন নাইল্যান্ড। সেই মুহূর্তটি শুধু একটি গোলই বাঁচায়নি, পুরো নরওয়ে দলকে নতুন আত্মবিশ্বাসও এনে দেয়।

পেনাল্টি ঠেকানোর পরও থেমে থাকেননি এই গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাথিউস কুনহার দূরপাল্লার শক্তিশালী শট এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির বিপজ্জনক ভলি দারুণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার দৃঢ়তায় বিরতির আগে গোলশূন্য অবস্থায় টিকে থাকতে সক্ষম হয় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় নাইল্যান্ডকে। বদলি হিসেবে নামা এন্দ্রিক গোলের সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে একান্ত সুযোগে শট নেন তিনি। কিন্তু সামনে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নাইল্যান্ড অসাধারণ সেভে সেই সুযোগও নষ্ট করে দেন।

পুরো ম্যাচজুড়েই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতিময় আক্রমণ, ব্রাজিলের ধারাবাহিক চাপ এবং একের পর এক শটের সামনে অটল ছিলেন নরওয়ের এই গোলরক্ষক। শেষ দিকে নেইমারের পেনাল্টি থেকে গোল হলেও ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে গেছে।

হালান্ড জোড়া গোলে নরওয়েকে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে পৌঁছে দিলেও, গোলপোস্টের নিচে নাইল্যান্ডের অবিশ্বাস্য দৃঢ়তা ছিল সেই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। ম্যাচ শেষে তাই নরওয়ের এই রূপকথার জয়ে হালান্ডের পাশাপাশি নেপথ্যের মহানায়ক হিসেবেও উচ্চারিত হচ্ছে নাইল্যান্ডের নাম।