প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৪:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের শাসনের পর প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে হামাস। সোমবার সংগঠনটি তাদের প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানায়। এর ফলে গাজার বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব যাচ্ছে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)-এর হাতে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের আওতায় এনসিএজি গঠন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার সরকারি সেবা, বেসামরিক প্রশাসন এবং দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করবে এই কমিটি। এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাতকে।
হামাসের এ সিদ্ধান্তকে গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর থেকেই সংগঠনটি উপত্যকার কার্যত শাসনক্ষমতায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর থেকেই প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল তারা।
হামাসের সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানিয়েছেন, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে এনসিএজির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য অজুহাত দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব আর হামাসের হাতে থাকবে না।
অন্যদিকে হামাসের ঘোষণার পরপরই ‘বোর্ড অব পিস’ জানায়, এনসিএজি গাজা উপত্যকার সব ধরনের অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন ও এক অস্ত্র’ নীতির ভিত্তিতেই নতুন প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালিত হবে। সেই অনুযায়ী গাজায় থাকা সব অস্ত্র এনসিএজির অধীনে এনে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।