ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইনের আওতায় দলটির বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ, দল নিষিদ্ধ করা এবং সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ রয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের কোনো দলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার ও নিষিদ্ধ করার যে আইনি কাঠামো বর্তমানে রয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই প্রণীত হয়েছিল। তার দাবি, অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, স্বৈরশাসনকে সহযোগিতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং দীর্ঘ সময় দেশে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ সংকুচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো নিয়েও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সহিংসতা চালানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিচার পরিচালনার বিধান রয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সেই তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে যদি দলটির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করে সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন কি না। জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার পর আপিল করার জন্য ৩০ কার্যদিবস সময় নির্ধারিত রয়েছে এবং সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে তিনি দেশে ফিরে নতুন কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিলে তখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করুন, সেটিই তারা প্রত্যাশা করেন।