এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

গাজায় প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্তির পথে হামাস, যুদ্ধের নতুন শঙ্কায় কূটনৈতিক তৎপরতা

গাজা উপত্যকায় কার্যত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে হামাস। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে মিসরের রাজধানী কায়রোতে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গাজায় পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে, ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক আরবি দৈনিক আশারক আল-আওসাত রোববার হামাসের দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সংগঠনটির নেতৃত্ব শিগগিরই গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘কমিটি ফর মনিটরিং গভর্নমেন্ট অ্যাকটিভিটি’ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই কমিটিই গাজা উপত্যকায় হামাসের পক্ষে বেসামরিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটি বিলুপ্তির উদ্দেশ্য হলো গাজা পরিচালনার দায়িত্ব একটি জাতীয় বা টেকনোক্র্যাটস কমিটির কাছে হস্তান্তর করা। এই নতুন কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আলি শা'আত। হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। যদিও আরেকটি সূত্রের দাবি, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও ঘোষণার নির্দিষ্ট সময় এখনো ঠিক হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা মহলে ধারণা করা হচ্ছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে গাজায় আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। এমনকি অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগেই নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কথিত 'বোর্ড অব পিস' শিগগিরই এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানিয়ে হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এমন ঘোষণা এলে বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা গাজার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান চালানোর পথ আরও সহজ হতে পারে।

চ্যানেল–১২ আরও দাবি করেছে, বোর্ডের মহাপরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ দুই মাস আগেই হামাসকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়। একটি রাজনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে হামাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিভঙ্গের জন্য দায়ী ঘোষণা করা হতে পারে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে অচলাবস্থা দূর করতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কায়রোতে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত অক্টোবরে ঘোষিত বহুধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। এতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং হামাসের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও প্রাণ হারিয়েছেন।

সূত্রগুলোর মতে, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। লক্ষ্য হলো গাজায় স্থায়ী শান্তি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

এ ছাড়া দাবি করা হয়েছে, বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ ইতোমধ্যে মিসরে পৌঁছেছেন এবং সেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। তবে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ম্লাদেনভের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী সর্বশেষ সংশোধিত প্রস্তাবের বিষয়ে কী অবস্থান নেয় এবং কায়রোর আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, তার ওপরই তাঁর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নির্ভর করবে।