প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শেষ আটে উঠেছে নরওয়েজিয়ানরা। একই সঙ্গে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রেখেছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। দ্বিতীয় মিনিটেই বের্গা বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
এরপর ম্যাচে ফিরে আসার বড় সুযোগ পায় ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়াকে নরওয়ের ডি-বক্সে ফাউল করা হলে প্রথমে খেলা চালিয়ে দিতে বলেন রেফারি। পরে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস। তার শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।
পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শক্তিশালী শটও রুখে দেন নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষদিকে কাসেমিরোর বাড়ানো বলে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিকও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বারের ওপর দিয়ে পাঠান তিনি। ব্রাজিলের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার মাশুল দিতে বেশি সময় লাগেনি।
৮০তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলডারুপের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। গোল হজমের পর চাপ বাড়াতে গিয়ে আরও বিপদে পড়ে ব্রাজিল। মার্টিন ওডেগার্ডকে বিপজ্জনক ফাউল করায় নেইমার সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
সংখ্যায় একজন কমে যাওয়া ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট আলিসন বেকারের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে গেলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০।
যোগ করা সময়ে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পায়। কাসেমিরোকে ফাউল করার দায়ে স্পটকিক দেওয়া হলে নেইমার গোল করে ব্যবধান কমান। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার ৮০তম গোল। তবে সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে, ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নরওয়ের উদযাপন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস লেখে তারা। অন্যদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ব্রাজিলকে শেষ ষোলোর বাধাতেই থামতে হয়।