ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ , ০৫:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’: এনসিপির ৩৬ দিনের কর্মসূচি শুরু ১ জুলাই

দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। টানা এ আয়োজন চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই একটি অনন্য অধ্যায়। এ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এনসিপি জানায়, ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারত, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে মাসব্যাপী পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। এরপর ২ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াললিখন, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি পালিত হবে।

দলটির ঘোষিত কর্মসূচিতে আরও রয়েছে ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী সমাবেশ, কৃষকদের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা, কফিন মিছিল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডে, উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই স্মরণ, মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান তুলে ধরা, আহতদের স্মৃতিচারণ, যুব কনভেনশন, শ্রমিক সমাবেশ, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন আয়োজন। একই সময়ে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিদেশেও মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহকে এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে। কমিটিতে আরও ২৬ জন সদস্য রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আলী আহসান জুনায়েদ, আরিফুল ইসলাম আদীব, সাইফ মোস্তাফিজ, তারিকুল ইসলাম, আকরাম হোসাইন সিএফ, আশরেফা খাতুনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়; এটি আত্মত্যাগ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতীক। শহীদদের স্মরণ, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তারা।