প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ , ০৫:৪৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
প্রথম ৪৫ মিনিটে ব্রাজিলকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন নিজেদের ছন্দই খুঁজে পাচ্ছে না। মাঝমাঠে বারবার বল হারানো, আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব এবং রক্ষণে মনোযোগের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় জাপান। কিন্তু বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্রাজিলকে দেখা গেল। কৌশলগত পরিবর্তন, আক্রমণের গতি বৃদ্ধি এবং প্রতিপক্ষের ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল। এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা, আর বিদায় নিতে হয়েছে জাপানকে।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ব্রাজিলের মাঝমাঠের ভুলই জাপানের গোলের পথ তৈরি করে দেয়। দানিলোর ভুল পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন সানো। কাসেমিরোকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শটে কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক আলিসন। পুরো ম্যাচে জাপানের এটিই ছিল একমাত্র লক্ষ্যভেদী শট, কিন্তু সেটিই প্রথমার্ধে পার্থক্য গড়ে দেয়।
প্রথমার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিলের ফুটবলে ছিল না ধার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও সতীর্থরা আক্রমণে উঠলেও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তহীনতা এবং জাপানের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাদের আটকে দেয়। অন্যদিকে, মাঝমাঠে জাপানের সংগঠিত প্রেসিং ব্রাজিলকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলে।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। আনচেলত্তির দল আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং কর্নার ও উইং ব্যবহার করে জাপানের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এর ফল আসে ৫৬তম মিনিটে। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে শক্তিশালী হেডে সমতা ফেরান কাসেমিরো। প্রথমার্ধের ভুলে সমালোচিত এই মিডফিল্ডারই দ্বিতীয়ার্ধে হয়ে ওঠেন দলের প্রত্যাবর্তনের অন্যতম নায়ক।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আরও কয়েকটি আক্রমণে অল্পের জন্য গোল পায়নি তারা। জাপান তখন মূলত নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল এবং পাল্টা আক্রমণে আর আগের মতো কার্যকর হতে পারেনি।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই আসে ব্রাজিলের জয়সূচক মুহূর্ত। ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত পাস ধরে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি প্রথম স্পর্শেই নিজের জন্য জায়গা তৈরি করেন। এরপর বাঁকানো শটে জিয়ন সুজুকিকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। শেষ মুহূর্তের এই গোল শুধু ব্রাজিলকে জয়ই এনে দেয়নি, দলটির মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে।
এই ম্যাচ দেখিয়েছে, ব্রাজিল এখনও পুরো ৯০ মিনিট সমান ছন্দে খেলতে না পারলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। অন্যদিকে, জাপান প্রথমার্ধে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের অব্যাহত চাপ সামলাতে পারেনি। ফলে সাহসী লড়াই করেও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয়েছে তাদের।
এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে তারা মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের।