প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬ , ১১:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইউক্রেনে যুদ্ধের চার বছর পেরিয়ে গেলেও সংঘাত থামানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন করে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। ফলে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে চাপে পড়েই দূরপাল্লার হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। তার ভাষায়, কিয়েভ মনে করছে এমন উদ্যোগ তাদের রক্ষা করবে, তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাশিয়ার পরিকল্পনার অংশ নয়।
অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা আরও জোরদার করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় দূরপাল্লার ড্রোন রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সঙ্গে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগও কার্যত স্থবির হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না পুতিন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতায় রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এবং সেই সামরিক সুবিধা ছাড়তে মস্কো আগ্রহী নয়।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়ে রাশিয়ার কাছে বার্তা পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যান করেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের অবস্থান, দোনবাস অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করলেই কেবল অর্থবহ আলোচনা সম্ভব। তবে ইউক্রেন শুরু থেকেই নিজেদের কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী থাকায় যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা দূরেই রয়ে গেছে।