খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৪:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখেছে ৬ কোটি ৩০ লাখ দর্শক, গড়ল নতুন রেকর্ড

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইন সম্প্রচারের দর্শকসংখ্যাতেও নতুন ইতিহাস গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি দেশটির ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত রোববার নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচার মিলিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ দর্শক সরাসরি উপভোগ করেছেন।

সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সের প্রকাশিত তথ্যমতে, ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত ফাইনাল ম্যাচটি দেখেছেন ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক। ম্যাচ চলাকালে একপর্যায়ে দর্শকসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজারে পৌঁছে। নিলসেন মিডিয়া রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের রেকর্ড গড়েছে।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তাদের সম্প্রচারে ম্যাচটি উপভোগ করেছেন আরও ২ কোটি ২৬ লাখ দর্শক। দুই ভাষার সম্প্রচারের মোট হিসাবেই দর্শকসংখ্যা ৬ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।

শুধু ফাইনাল নয়, এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের একাধিক ম্যাচও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় অন্যান্য ক্রীড়া আসরের দর্শকসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচটি প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ দর্শক দেখেছেন।

দর্শকসংখ্যার হিসাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি ক্রীড়া আসরকেও পেছনে ফেলেছে। এমএলবি ওয়ার্ল্ড সিরিজের সপ্তম ম্যাচের দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ। একইভাবে এনবিএ ফাইনালসের পঞ্চম ম্যাচের দর্শকসংখ্যাও বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচের তুলনায় কম ছিল।

যদিও মার্কিন ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় আয়োজন সুপার বোলের প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ দর্শকের রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে, তবুও ফুটবল বিশ্বকাপের এই বিপুল দর্শকপ্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটির ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বাস্কেটবল, বেসবল ও আমেরিকান ফুটবলের মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় খেলাগুলোর পাশাপাশি সাধারণ ফুটবল এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। এবারের বিশ্বকাপ সেই পরিবর্তনের অন্যতম বড় প্রমাণ।