খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপে ‘ম্যাচ পাতানো’র কোনো প্রমাণ পায়নি ফিফা

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই বা দর্শক উপস্থিতির দিক থেকেই নয়, ক্রীড়া সততা রক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ফিফার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের একটিতেও ম্যাচ পাতানো বা সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রমের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিশ্ব ফুটবলের পাশাপাশি উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের বৃহত্তম এই বিশ্বকাপকে ঘিরে সম্ভাব্য ম্যাচ ফিক্সিং, অবৈধ বেটিং এবং কারসাজির ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিফা বিশেষ ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিল। বিশ্বকাপজুড়ে এই টাস্ক ফোর্স বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি ম্যাচের ওপর নিবিড় নজরদারি চালায়।

ফিফার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর পাঠানো বেটিং-সংক্রান্ত তথ্য, গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং বিদ্যমান রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোও কার্যকর ছিল।

ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ বলেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। টুর্নামেন্টজুড়ে সদস্যদের পেশাদারিত্ব এবং সহযোগিতা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ ফুটবল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মতো ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নের পথে থাকা দেশগুলোর জন্যও এটি একটি শিক্ষণীয় মডেল। ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কীভাবে একটি প্রতিযোগিতাকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে এবারের বিশ্বকাপ।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ফিফার ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্সে বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সততা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা), দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল, কনকাকাফ, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন, ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন, ইন্টারপোল, এফবিআই, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর, আন্তর্জাতিক বেটিং ইন্টেগ্রিটি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান।

বিশ্ব ফুটবলে ম্যাচ পাতানোর মতো অনিয়ম প্রতিরোধে বহুপক্ষীয় এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ যদি নিজেদের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একই ধরনের স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ক্রীড়াঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা আরও শক্তিশালী হবে।