ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আরসিইপিতে যোগদানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, সিঙ্গাপুরের সমর্থন চাইল ঢাকা

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় সিঙ্গাপুরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে সম্পৃক্ততা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অংশ হিসেবে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ যোগদানে সিঙ্গাপুরের সমর্থন চেয়েছে ঢাকা।

আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান এবং সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা কামনা করেন খালিলুর রহমান। বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খালিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। জবাবে খালিলুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সিঙ্গাপুরের মতো ছোট ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ ও উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পাবে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তির অভিবাসন এবং বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে সিঙ্গাপুর ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চলমান প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। এছাড়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এলডিসি-পরবর্তী সময়ের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরসিইপিতে সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।