প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন, বিরোধীদের চাপ এবং সংসদে অচলাবস্থার মধ্যে দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সরকারের এ ঘোষণার পরও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, দেশের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও মঙ্গলবার এনডিএ জোটের বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির জন্য মোদি সরকারই দায়ী। তার দাবি, সরকারের প্রশ্রয়েই শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়েছে।
রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সেগুলো হলো, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বুধবার রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, গত ১০ বছরে ভারতে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। তার এ বক্তব্যের একদিন পরই দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা আসে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংগঠনটি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, "ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।"
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের সংসদেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধী দলগুলো এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সংসদে আলোচনায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে সরকারের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আলোচনার পূর্বশর্ত করে বিরোধীরাই সংসদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।
ফলে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা এলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নির্ধারণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক ও শিক্ষার্থী অঙ্গনের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।