এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:১৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কলকাতা হোটেলে আগুন: লিজগ্রহীতা গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন মোড়

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘শিখা ইন’ হোটেলের লিজগ্রহীতা আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। একই ঘটনায় হোটেলের আরও দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার ভোররাতে পাঁচতলা একটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটিতে একাধিক হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল। আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়; নিহতদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও রয়েছে। আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। প্রায় ৬০ থেকে ৮০ জনকে ভবনটি থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লিজগ্রহীতা আবু জাফর গ্রেপ্তার

পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিখা ইন হোটেলের লিজগ্রহীতা আবু জাফরকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে তার সম্ভাব্য দায় ও হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে হোটেলের দুই কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। আগুন কীভাবে লাগল, হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করবে দলটি। তবে এখন পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।

নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও

মর্মান্তিক এই ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলাদেশ ও কলকাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত নয়জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজনও রয়েছেন।

তবে ভারতীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নিহতদের জাতীয়তার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিশ্চিত তথ্য—পাঁচ বাংলাদেশি—ব্যবহার করাই নিরাপদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও হোটেলটিতে অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।

ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আগুনের চেয়ে ঘন ধোঁয়াই অনেকের মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে। ভবনের কয়েকটি কক্ষে পর্যাপ্ত জানালা না থাকায় ধোঁয়া বের হওয়ার পথ সীমিত ছিল। এতে ঘুমন্ত অতিথিদের অনেকে দ্রুত বের হতে পারেননি।

দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালান। ভবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে আটকে পড়াদের বের করে আনা হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

১৩টি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নোটিশ

অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা প্রশাসন ওই এলাকার অন্যান্য হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর কলকাতার পুরোনো ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরু রাস্তা, পুরোনো ভবন, জরুরি বহির্গমন পথ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসছে।

রাজ্য সরকারও শহরের বিভিন্ন হোটেলের অনুমতি ও ফায়ার লাইসেন্স পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, এখন সেটিই দেখার

নয়জনের প্রাণহানির ঘটনায় লিজগ্রহীতা গ্রেপ্তার এবং দুই কর্মীকে আটক করার মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ, হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি হোটেলের দুর্ঘটনা নয়; শহরের আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও নিয়মকানুন কতটা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।