এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ , ০৪:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য স্থগিত করল আমিরাত

ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আবুধাবি। UAE-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বড় সিদ্ধান্ত

আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের আগে মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরান থেকে UAE-এর দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আমিরাতের দাবি অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে পড়ে।

তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরান আমিরাতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা

সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং পুনঃরপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও UAE ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিমাণও যথেষ্ট বড়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্য কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

UAE-এর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও পড়ছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৮৯ ডলারে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।

কূটনীতির দরজাও খোলা রাখছে আমিরাত

তবে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করলেও UAE জানিয়েছে, তারা সংলাপ, সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক পথ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা UAE এতদিন রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। এবার সেই সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের আঘাত এল।

ইরান ও আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতদিন স্থগিত থাকবে এবং এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি, বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে কী ধরনের প্রভাব পড়ে—এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।