এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬ , ০২:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আরাকান আর্মির হাত থেকে মুক্ত ২৪ জেলে, দেশে ফিরলেন

মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (AA) হাতে আটক ২৪ জেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সীমান্তের নাফ নদীর জিরো লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে তাদের গ্রহণ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাদের টেকনাফ জেটিতে নিয়ে আসা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়ায় এসব জেলেকে আটক করেছিল আরাকান আর্মি। তাদের মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগার ও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে মানবিক বিবেচনায় ধাপে ধাপে তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় বিজিবি।

তবে ফেরত আসা ২৪ জনের পরিচয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ছয়জন রোহিঙ্গা।

বুধবার দুপুরে বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল নাফ নদীর জিরো লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে জেলেদের গ্রহণ করে। এরপর তাদের টেকনাফের জেটিতে আনা হয়। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পরিচয় যাচাই শুরু করে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

দীর্ঘদিন বন্দি ছিলেন কয়েকজন

ফিরে আসা জেলেদের একজন সাবরাং ইউনিয়নের কোয়ানছড়িপাড়ার মোহাম্মদ শফিক। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় নয় মাস আরাকান আর্মির হাতে আটক ছিলেন। তাঁর দাবি, বন্দি অবস্থায় তাদের দিয়ে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শ্রমের কাজ করানো হতো এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করা হতো। খাবার হিসেবেও দিনে মাত্র একবার ভাত দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিক জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পূর্বদিকে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি ও আরও পাঁচজন জেলে আরাকান আর্মির সদস্যদের হাতে আটক হন। পরে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগেও জেলেদের ফিরিয়েছে বিজিবি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে জেলেদের আটকের ঘটনা নতুন নয়। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জেলেদের আটক করেছে আরাকান আর্মি।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭৩ জন জেলেকে মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। মে মাসেও আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জন জেলেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়; তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি এবং একজন রোহিঙ্গা ছিলেন।

সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্তবর্তী এলাকায় জেলেদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২৪ জেলের দেশে ফেরাকে মানবিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে জেলেদের অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে আরও সতর্কতা ও সীমান্ত এলাকায় কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।