প্রকাশিত: ২২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৫:৫৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে ব্যাটিং বিপর্যয়; একাই ৬ উইকেট নিলেন মিচেল স্টার্ক
প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে যেন পুরোপুরি উল্টো চিত্র বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তিনি। বাংলাদেশের ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ৩৪ ওভার।
টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাকাইয়ের উইকেটে শুরু থেকেই বল সুইং ও সিম করছিল। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথম থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ।
শুরুতেই বিপর্যয়
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই উইকেট পড়তে থাকে। মিচেল স্টার্কের গতি, সুইং ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে বাংলাদেশের টপ অর্ডার দাঁড়াতেই পারেনি। একপর্যায়ে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
লাঞ্চের আগেই বাংলাদেশের স্কোর ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছে যায়। দ্বিতীয় সেশনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন শরীফুল ইসলাম—১৪। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট অবদানেই কোনোভাবে ৬০-এর ঘর পার করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ৬৪ রান টেস্ট ক্রিকেটে তাদের অন্যতম সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৪৩ রান।
স্টার্কের রেকর্ড গড়া বোলিং
অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন মিচেল স্টার্ক। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এটি ষষ্ঠ দ্রুততম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
প্যাট কামিন্সও বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি নেন তিন উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে মাত্র ৩৪ ওভারে অলআউট করে দেন।
জবাবে অস্ট্রেলিয়াও শুরুতে ধাক্কা খায়
বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমেও অস্ট্রেলিয়া শুরুতে স্বস্তিতে ছিল না। বাংলাদেশের পেসার শরীফুল ইসলাম দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করেন। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া ৫০ রানে তিন উইকেট হারায়।
তবে পরে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন পরিস্থিতি সামাল দেন। ফলে প্রথম দিনের শেষভাগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সংগ্রহ পেরিয়ে যায় এবং ম্যাচে বড় লিড নেওয়ার অবস্থানে চলে যায়।
সিরিজ সমতার পথে অস্ট্রেলিয়া?
ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার এমন প্রত্যাবর্তন সিরিজের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
প্রথম দিনেই বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ায় এখন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে বাংলাদেশের বোলাররা যদি দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারেন, তাহলে ম্যাচে আবারও নাটকীয়তা ফিরতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—অস্ট্রেলিয়ার লিড যতটা সম্ভব কম রাখা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানো।