প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০১:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। শুধু তা–ই নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয় আর্জেন্টিনাকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে তারা। নকআউটের দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে সমতায় ফিরে খেলা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিল আফ্রিকান দলটি, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলের হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও, মাঠের সেই বীরোচিত লড়াই শেষে কোচ ও খেলোয়াড়দের কণ্ঠে ঝরেছে গর্বের সুর।
কেপ ভার্দের এই রূপকথার পেছনে রয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু ব্যক্তিগত গল্পও। আর্জেন্টিনার জালে দুর্দান্ত এক গোল করা সিডনি ক্যাব্রাল মাত্র তিন বছর আগেও খেলতেন জার্মানির পঞ্চম স্তরের ঘরোয়া লিগে! সেখান থেকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগ ভাঙার এই অবিশ্বাস্য উত্থান টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চ হয়ে থাকবে।
ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ ও গর্ব বুক ফুলিয়ে জানাতে থাকেন কেপ ভার্দের হেড কোচ বুবিস্তা। শিষ্যদের লড়াকু মনোভাবকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দল নিয়ে আমি গর্বিত। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যেভাবে আমার দল খেলেছে, দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে সমতায় ফিরে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেছে—তা আমাদের দেশকে সম্মানিত করেছে। সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। এই বিশ্বকাপ এবং আমাদের চরিত্র বিশ্বমঞ্চে দেশকে অনন্য মর্যাদায় বসিয়েছে। এটি আমাদের ফুটবলীয় পরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করল।’
কোচের সুরেই কথা বলেছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ফারেন্সে খেলা দলটির মিডফিল্ডার ইয়ানিক সেমেদো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বদলি নেমে অ্যাসিস্ট করা এই ফুটবলার ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এটি এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা জানতাম ম্যাচটি ভীষণ কঠিন হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমরা মাঠে আমাদের সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠিনি।’
প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল কেপ ভার্দে। নকআউটের শেষ বত্রিশের ম্যাচেও আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে বাধ্য করেছে তারা।
কেপ ভার্দেকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আফ্রিকার আরেক দল মিসরের। তবে আসর থেকে বিদায় নিলেও বুক চিতিয়ে লড়াই করা কেপ ভার্দে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখে রাখল বীরের বেশেই।