প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০১:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইউরোপজুড়ে জুনের শেষ দিকে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিন দেশের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
গত ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত টানা আট দিনের তীব্র তাপপ্রবাহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপরও তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। জলবায়ুবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ইউরোপের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, যার পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশই আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা বা জটিলতায় ভুগছিলেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই তীব্র তাপপ্রবাহ না হলে তাদের অনেকেই আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারতেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ফ্রান্সে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আট দিনের তাপপ্রবাহে দেশটিতে অতিরিক্ত ২ হাজার ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে দেশটিতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫৩০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া ১৮০ জনের বয়স ছিল ৬৫ বছরের নিচে এবং বাকিদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তাদের ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের জন্য নজিরবিহীন।
নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই তাপপ্রবাহে দেশটিতে অতিরিক্ত ৪৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগের বয়স ৮০ বছরের বেশি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি।