প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ব্রাজিলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় দেশটির অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে চীন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে ফোনালাপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে বেইজিং।
সোমবার দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের ফোনালাপে শি জিনপিং বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও প্রভাবকে চীন অত্যন্ত মূল্যায়ন করে। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রাজিলের অবদানকে সমর্থনের কথা জানান।
আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বোলসোনারো, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, 'মার্কোসুর-চীন বাণিজ্য চুক্তি' নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছেন। মার্কোসুর দক্ষিণ আমেরিকার একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট।
আলোচনায় লুলা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপের মুখে ব্রাজিল তার রপ্তানি বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের আরও বৈচিত্র্যময় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চলতি মাসে ওয়াশিংটন ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর দুই দফা শুল্ক আরোপ করেছে। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লুলা প্রশাসন অভিযোগ করেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপ রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি প্রচেষ্টা। এ কারণে ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে ভিসা দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাজিলে আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে নতুন করে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় চীনের প্রকাশ্য সমর্থন লুলা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।