ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ , ১২:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ ছাড়াবে ১ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে মোট বিনিয়োগ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও প্রকল্পটির সম্প্রসারিত পরিধি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

সোমবার আনোয়ারায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আনোয়ারাকে কেন্দ্র করে শিল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, লজিস্টিকস ও সেবা খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটবে, যার সুফল পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রতি চট্টগ্রাম বা আনোয়ারায় একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আমির খসরু। তাঁর মতে, এমন একটি কেন্দ্র স্থানীয় শিল্প খাতের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশের জনশক্তির প্রতিযোগিতা বাড়াবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক বাধা কমানোর নীতি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সপ্তাহে সাত দিন ও ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত সংস্কার আনতে সরকার প্রস্তুত।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চীনা প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।