প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৬ , ০৬:১৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
এক প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ সহায়তা, অনুমোদন ও নীতি সমন্বয়ের লক্ষ্য; ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসায়িক লাইসেন্সিংয়ের উদ্যোগ
দেশের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে নতুন সরকারি সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এটি দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহায়তাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রথম কর্মদিবস থেকেই নতুন সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ সহায়তা, নীতি সমন্বয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সক্ষমতা একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘এক দরজা’ সেবা
নতুন সংস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি দপ্তরের জটিলতা কমানো। এত দিন কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সংস্থা ও প্ল্যাটফর্মে আলাদা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। নতুন কাঠামোয় বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা অনুমোদন, নিবন্ধন, প্রকল্পের স্থান, বিভিন্ন সরকারি সেবা এবং ব্যবসায়িক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতা পাবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ঘোষিত শিল্পাঞ্চলগুলোকেও একই কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৪ দিনে লাইসেন্সিংয়ের পরিকল্পনা
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এখন ১৪ দিনের ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। লক্ষ্য হচ্ছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত লাইসেন্স এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করা। এটি কার্যকর হলে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
বর্তমান বিনিয়োগ সেবাগুলোও চালু থাকবে। নতুন সংস্থা দেশের একক ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা প্ল্যাটফর্ম বাংলাবিজ পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। অনলাইনে সময়বদ্ধভাবে বিভিন্ন লাইসেন্স ও অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, এটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার বিষয় নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে সাজানো।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা একত্র করার মাধ্যমে বিনিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করা এবং বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন ব্যবস্থার বড় পরীক্ষা
তবে নতুন নাম ও কাঠামো কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বিনিয়োগকারীদের কাছে দ্রুত সেবা, নির্ভরযোগ্য অনুমোদন, অবকাঠামো ও জ্বালানির নিশ্চয়তা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারলেই নতুন সংস্থাটির সাফল্য নির্ধারিত হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনার ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ হবে।