ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট ২০২৬ , ০৪:৫৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়ার গ্যাস কমপ্লেক্সে আগুন, নিহত ১৫; বাংলাদেশিও আছেন

একজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত, নিখোঁজ আরও একজন; আহত সাতজনের চিকিৎসা চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি শ্রমিকও রয়েছেন। বাংলাদেশের মস্কো দূতাবাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিখোঁজ এবং সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোয় নেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট নির্মাণাধীন কমপ্লেক্সটির একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শ্রমিকদের আগুনের এলাকা থেকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়। পরে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক জাকির হোসেন

বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের নাম জাকির হোসেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দুর্ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবস্থা জানতে রুশ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজ বাংলাদেশি শ্রমিকের সন্ধানেও তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আহত সাত বাংলাদেশির চিকিৎসার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে দূতাবাস।

মোট ১৫ জনের মৃত্যু

প্রথমদিকে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা কম ছিল। ২৬ আগস্ট রুশ কর্তৃপক্ষ সাতজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরদিন উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে একজন রুশ নাগরিক এবং ১৪ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের সবাই নির্মাণকাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন।

এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত ৩৯ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাঁদের মধ্যে নয়জনকে মস্কোর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে শিল্পনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি এখনো নির্মাণাধীন। সেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি। রাশিয়ার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। শিল্পনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। প্রাথমিকভাবে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কমপ্লেক্সটি রাশিয়ার সিবুর ও চীনের সিনোপেকের যৌথ প্রকল্প এবং এটি বিশ্বের বড় পলিথিন ও পলিপ্রোপিলিন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিকল্পিত। অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন অংশে নির্মাণ ও পুনরুদ্ধারকাজ আবার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ রাশিয়ার বড় শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ রয়েছে। দুর্ঘটনার পর সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।