প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট ২০২৬ , ০২:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অস্ট্রেলিয়ার পেসনির্ভর পরিকল্পনায় জায়গা হারানোর শঙ্কায় অভিজ্ঞ অফস্পিনার
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের নির্ভরতার নাম নাথান লিয়ন। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজের পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে পেসনির্ভর একাদশ খেলানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। ফলে লিয়নের জায়গা এখন আগের মতো নিশ্চিত নয়।
৩৮ বছর বয়সী লিয়ন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট একাদশে তাঁর জায়গা প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলের পেস আক্রমণের শক্তি এতটাই বেড়েছে যে কিছু কন্ডিশনে একজন স্পিনারের পরিবর্তে অতিরিক্ত পেসার খেলানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও লিয়নের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি ১২৫ রান দিয়ে মাত্র একটি উইকেট নেন। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য তিন উইকেট নেন, যার দুটি ছিল নিচের সারির ব্যাটারদের। এই পারফরম্যান্সও তাঁকে নির্বাচকদের সমালোচনার বাইরে রাখতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার দলে এখন স্কট বোলান্ডের মতো কার্যকর পেসার রয়েছেন। পাশাপাশি ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টারের মতো অলরাউন্ডাররা বোলিংয়ের বিকল্প বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে পেসার বাড়ানোর কৌশল বেছে নেওয়া হলে লিয়নকে বাদ পড়তে হতে পারে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি লিয়নের সামর্থ্যের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যের অর্থ হলো, লিয়নের অভিজ্ঞতা এখনো দলের জন্য মূল্যবান। কিন্তু নির্দিষ্ট কন্ডিশন ও পিচ বিবেচনায় একাদশ বাছাইয়ে নমনীয়তা প্রয়োজন।
লিয়নের জন্য এটি অবশ্য নতুন অভিজ্ঞতা নয়। অ্যাশেজের শেষ দুটি টেস্টে ইনজুরির কারণে তিনি বাইরে ছিলেন—ঘরের মাঠে ১৩ বছর পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি।
বাংলাদেশ সিরিজের পর তাই অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের সামনে বড় প্রশ্ন—অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করা হবে, নাকি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে পেসনির্ভর নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হবে?