ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট ২০২৬ , ১২:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রামপালে দ্বিতীয় কয়লাভিত্তিক ইউনিট নয়, হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

৪৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্পে ব্যয় ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা; পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের তাগিদ

বাগেরহাটের রামপালে দ্বিতীয় ইউনিট হিসেবে আর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে একই এলাকায় ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশগত উদ্বেগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর নীতির অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এ প্রকল্পের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দিয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল এবং ৩৭৫ কোটি টাকা পিডিবির নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

কয়লার জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ

রামপালে বর্তমানে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। এর পাশের জমিতে একই ক্ষমতার আরেকটি কয়লাভিত্তিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে সেখানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৮৫ একর জমিতে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২৩০ কেভি সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে।

কেন পরিবর্তন হলো?

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে শুরু থেকেই পরিবেশগত উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকায় কয়লা পরিবহন, কয়লা পোড়ানো থেকে সৃষ্ট দূষণ এবং ছাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবেশবিদেরা দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর কয়লা, গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে পরিবেশগত প্রভাব আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। পর্যালোচনার পর তা কমিয়ে ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সময়সীমাও কমিয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন, কেবল ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামোও তৈরি করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় পদক্ষেপ?

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে কম। ফলে রামপালের মতো বড় প্রকল্পে কয়লার পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ বেছে নেওয়াকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে সরকারের নীতিগত অগ্রসরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা রামপালের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত জমি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন করে কয়লা আমদানি ও কয়লাভিত্তিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎস যুক্ত হবে।

তবে প্রকল্পের বাস্তব সুফল পেতে হলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালনব্যবস্থা, জমির কার্যকর ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ—সবগুলো বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।