এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ১২:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ভিজিট ভিসায় নতুন উদ্বেগ

B-1/B-2 নিয়ে এসে অ্যাসাইলাম করলে ভিসা বাতিলের উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বন্ডও হারানোর ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রে B-1 ব্যবসা কিংবা B-2 পর্যটন ভিসায় প্রবেশ করে পরে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন এমন বিদেশিদের ভিসা প্রত্যাহারের ব্যাপক উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, Department of Homeland Security বা DHS-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে, যারা স্বল্পমেয়াদি সফরের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অ্যাসাইলামের আবেদন করে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করেছেন।

বিষয়টি বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের B-1/B-2 visa-bond কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান সরকারি নির্দেশনায় সরাসরি বলা হয়েছে, বন্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কেউ nonimmigrant status থেকে বেরিয়ে অন্য অবস্থানে যাওয়ার আবেদন করলে, যার মধ্যে অ্যাসাইলাম দাবি করাও অন্তর্ভুক্ত, তার বিষয়টি সম্ভাব্য bond breach হিসেবে USCIS-এর কাছে পাঠানো হতে পারে। 

দুই লাখ ভিসা কি সত্যিই বাতিল হচ্ছে?

এসোসিয়েটেড প্রেসের,এর হাতে আসা State Department-এর অভ্যন্তরীণ নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ প্রায় দুই লাখ B-1/B-2 ভিসা প্রত্যাহারের আওতায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট ভিসাগুলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর পরিকল্পনাটির মূল বিষয় নিশ্চিত করেছে। তাদের বক্তব্য, DHS-এর সঙ্গে মিলে এমন বিদেশিদের nonimmigrant visa শনাক্ত ও প্রত্যাহারের কাজ চলছে, যারা নিজেদের স্বল্পমেয়াদি visitor হিসেবে উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য asylum আবেদন করেছেন। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দুই লাখ সংখ্যাটি নিশ্চিত করেনি। ফলে এখনই “দুই লাখ ভিসা বাতিল হয়ে গেছে” বলা সঠিক হবে না। দুই লাখ হচ্ছে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিসর সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ তথ্য।

পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় mass visa revocation উদ্যোগ হতে পারে।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে আরেক ঝুঁকি, ভিসা বন্ড

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে B-1/B-2 visa bond ব্যবস্থার কারণে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান সরকারি তালিকায় বাংলাদেশ visa-bond-এর আওতাভুক্ত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর। তালিকাভুক্ত দেশের কোনো নাগরিক B-1/B-2 ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হলে তাকে কনস্যুলার কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতে হতে পারে। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হয় ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়।

সব আবেদনকারীকে নিজে থেকে এই অর্থ জমা দিতে হয় না। কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দেশ দেওয়ার পরই সরকারি Pay.gov ব্যবস্থায় বন্ড জমা দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তর তৃতীয় পক্ষ বা বেসরকারি ওয়েবসাইটে অর্থ না দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছে। 

অ্যাসাইলাম করলে বন্ডের কী হবে?

এখানেই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নতুন পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগটি রয়েছে।

State Department-এর সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, visa-bond নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তি অনুমোদিত সময়ের পরে থেকে গেলে অথবা nonimmigrant status থেকে বেরিয়ে অন্য immigration status-এর জন্য আবেদন করলে বিষয়টি সম্ভাব্য bond breach হিসেবে USCIS-এর কাছে পাঠানো হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় উদাহরণ হিসেবে বিশেষভাবে লেখা হয়েছে, “including claiming asylum”, অর্থাৎ অ্যাসাইলাম দাবি করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

তবে এর অর্থ এই নয় যে অ্যাসাইলামের আবেদন করামাত্র প্রত্যেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ড বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। DHS বিষয়টি USCIS-এর কাছে পাঠাবে এবং সেখানে bond-এর শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির immigration history এবং মামলার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

ভিসা বাতিল মানেই অ্যাসাইলাম বাতিল নয়

এই জায়গায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।

B-1/B-2 ভিসা প্রত্যাহার এবং pending asylum application বাতিল করা একই আইনি পদক্ষেপ নয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাহার হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে deport করা হবে, এমন কথাও প্রশাসন বলেনি। বর্তমানে বিচারাধীন asylum case-গুলোর নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। 

অর্থাৎ কারও পাসপোর্টে থাকা B-1/B-2 visa, যুক্তরাষ্ট্রে তার admission বা authorized stay এবং তার asylum application, এগুলো immigration আইনে পরস্পর সম্পর্কিত হলেও এক জিনিস নয়।

এ কারণে কোনো বাংলাদেশির asylum case বিচারাধীন থাকলে শুধু গণমাধ্যমের খবর দেখে মামলা প্রত্যাহার, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা immigration status-সংক্রান্ত বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

একই সময়ে আরও পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক বড় পরিবর্তন একই সময়ে ঘটছে।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের immigrant visa issuance জানুয়ারিতে স্থগিত করেছিল State Department। কিন্তু ফেডারেল আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় ছিল। 

অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী ও exchange visitor-দের অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি বড় পরিবর্তন ১৫ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর বোস্টনের ফেডারেল বিচারক F. Dennis Saylor প্রশাসনকে সেই নতুন নিয়ম কার্যকর করা থেকে বিরত রাখেন। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাটি আপাতত বহাল রয়েছে। 

বাংলাদেশিদের এখন কী করা উচিত

বাংলাদেশ থেকে নতুন B-1/B-2 আবেদনকারীকে প্রথমেই মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ visa-bond তালিকায় রয়েছে। তবে কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো বন্ডের অর্থ জমা দেওয়া উচিত নয়।

আর যারা B-1/B-2 ভিসায় ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসে asylum করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের I-94, asylum receipt, immigration-court notice থাকলে সেটি এবং অন্যান্য immigration documents সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা।

কোনো সরকারি notice এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার জবাব দেওয়া জরুরি। ব্যক্তিগত মামলায় কী প্রভাব পড়বে তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির immigration history ও বর্তমান আইনি অবস্থার ওপর। প্রয়োজন হলে যোগ্য immigration attorney-এর কাছ থেকে নিজের নথি দেখিয়ে পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

এখনো যে প্রশ্নের উত্তর নেই

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো, সম্ভাব্য দুই লাখ B-1/B-2 visa revocation ঠিক কখন এবং কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং শেষ পর্যন্ত কতজনকে এর আওতায় আনা হবে।

State Department উদ্যোগটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করলেও দুই লাখের চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা ঘোষণা করেনি। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কতজন ইতোমধ্যে এই সম্ভাব্য তালিকায় আছেন, তারও কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব প্রকাশিত হয়নি।

তবে বাংলাদেশের জন্য visa-bond ইতোমধ্যে সরকারি নীতির অংশ এবং State Department-এর নির্দেশনায় asylum claim-কে সম্ভাব্য bond breach-এর একটি পরিস্থিতি হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বিষয়টি আর কেবল দূরের কোনো মার্কিন immigration policy নয়, এটি এখন সরাসরি নজরে রাখার মতো একটি বাস্তব বিষয়।