এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৯:২১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ভারত-চীন সম্পর্কের স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষা উত্তর-পূর্বাঞ্চল

সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পেলেও সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতার ক্ষেত্রে সীমান্ত পরিস্থিতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে সামনে রেখেছে ভারত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করেছেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ভিত্তি। ফলে মোদি-শি বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তার অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে আলোচনায় পূর্ব লাদাখ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেলেও সীমান্তের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে আরও জটিল কিছু কৌশলগত বাস্তবতা। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো অমীমাংসিত।

চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডের ওপর দাবি করে আসছে এবং অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে। বিভিন্ন সময়ে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানকে নিজেদের ভাষায় নতুন নাম দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে বেইজিং। ভারত অবশ্য বরাবরই চীনের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব শুধু ভূখণ্ডগত বিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়। তিব্বত, আন্তঃসীমান্ত নদী, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত অবকাঠামো এবং মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা, সবগুলো বিষয়ই এই অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল একটি বহুমাত্রিক কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে সামনে এসেছে।

সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার আগে গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অংশ নেন। বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আট দফা ঐকমত্যে পৌঁছায়।

এরপর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। অরুণাচল প্রদেশের তাকসিংকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোদি-শি বৈঠক, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির ঘটনাগুলো একই ধারায় বিবেচনা করলে দেখা যায়, ভারত-চীন সম্পর্ককে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে সীমান্তে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।

বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে চীনের অবস্থান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে। তাই লাদাখের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব সীমান্তকে ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের অন্যতম প্রধান পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।