কাজী রাহাত শামস

প্রকাশিত: ০৯ আগষ্ট ২০২৬ , ০৫:৪০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হেফাজতের ৯ দাবি, আলেমদের সরকারে চান বাবুনগরী

ইসলাম অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তি, কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি কার্যকর ও ২০২৪-এর হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান।

হেফাজতের দাবির মধ্যে রয়েছে—কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন সংসদে পাস না করা।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারে আলেমদের অংশগ্রহণের দাবি

রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসলামি পণ্ডিতদের মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রির মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।

স্কুল-কলেজে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার দাবিও রয়েছে।

আরও যেসব দাবি

হেফাজতের নয় দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা, আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ, বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের মাওলানা সাদকে নিয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবিও করেছে সংগঠনটি।

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন। হেফাজতের দাবিগুলো শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সেগুলো নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

তবে হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কওমি ধারার দলগুলোকে তাদের ১১ দলীয় জোট থেকে দূরে সরিয়ে নিতে সরকার হেফাজতকে ব্যবহার করতে পারে।

বিএনপি অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির নেতাদের বক্তব্য, হেফাজতের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংগঠনটির সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বিএনপি।

ফলে সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নতুন এই ঘনিষ্ঠতা শুধু ধর্মীয় দাবিদাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে—এখন সেটিই হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়।