এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ আগষ্ট ২০২৬ , ১০:১৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মরক্কো থেকে স্পেনের সিউতায় ঢুকতে অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় মরক্কো থেকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় কয়েক দশক হাজার অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় পদদলিত হওয়া, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সিউতায় প্রবেশ করেছে। তবে সিউতার স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাসের দাবি, অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৬০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক পরে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছে।

সীমান্তে একযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপের কারণে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অনেকে সাঁতরে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, আবার অনেকে তারাজাল সৈকতের সীমান্তপ্রাচীরের দিকে একসঙ্গে ছুটে গেলে পদদলিত হন। সীমান্তসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় জুতা, ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে থাকতে দেখা যায়। নিহতদের মধ্যে অনেকেই পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনের পাশাপাশি মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমান্তে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালায়।

সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সমুদ্রপথে সিউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানো অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। স্পেন সরকারের অভিযোগ, মানব পাচারকারী চক্র এ রায়কে বিকৃতভাবে প্রচার করে মানুষকে বোঝায় যে সাগর পেরিয়ে সিউতায় পৌঁছাতে পারলেই ইউরোপে থাকার সুযোগ পাওয়া যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাচারকারী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরই সীমান্তে অভিবাসীদের এই নজিরবিহীন ঢল নামে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মানব পাচারকারী চক্রকে এ সংকটের জন্য দায়ী করে বলেন, ভুয়া প্রচারণার মাধ্যমে হাজারো মানুষকে জীবনঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পার হতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে জানান, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মরক্কোর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।

অভিবাসীদের বড় একটি অংশ সিউতার পার্ক, ফুটপাত ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তাদের মধ্যে বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও অভিভাবকহীন কিশোর ছিল। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকটে পরিস্থিতি দ্রুত মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ইইউর সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং মানব পাচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে নতুন করে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইতালি স্পেনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে শেনজেন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছে। ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত তল্লাশির ঘোষণা দিয়েছে। তবে স্পেন সরকার বলছে, এ সংকটের সঙ্গে তাদের বৈধতা প্রদানের নীতির কোনো সম্পর্ক নেই; বরং মানব পাচারকারী চক্রের বিভ্রান্তিকর প্রচারণাই এই নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের প্রধান কারণ।