প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করে এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
সিঙ্গাপুর সময় সোমবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। ১১ জুনের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের মূল্য প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধি।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। এটিও এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান।
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনও ইরানি হামলার খবর জানিয়েছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে জাহাজ দুটি অনিরাপদ নৌপথ ব্যবহার করছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বন্দরে নৌ অবরোধ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, প্রণালিতে তাদের নির্ধারিত নিয়ম অমান্যকারী জাহাজগুলোই তাদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের কুমজার উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এলএসইজি'র তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র চারটি জাহাজ, যা আগের দিন ছিল আটটি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ বাড়বে এবং মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।