খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ১১:৩১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিপিএলের স্লটে পিএসএল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জন্য দীর্ঘদিন ধরে জানুয়ারি ছিল গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্লট। তবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের পর সেই স্লটটি এখন হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগামী বছরের শুরুতে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। শেষ পর্যন্ত জানুয়ারিতে পিএসএল নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত হলে বিপিএলকে নতুন সময়সূচি খুঁজতে হবে।

বিপিএলের বৈশ্বিক স্লট জানুয়ারি থেকে কিছুটা এগিয়ে মধ্য ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার ধারণা ছিল, এই সময়ে নিয়মিত বিপিএল আয়োজন করা গেলে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু এক মৌসুম বিপিএল আয়োজন না করায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে লিগটির মিডিয়া স্বত্বাধিকারী ওয়ালি টেকনোলজিস। মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

জানুয়ারি স্লটে পিএসএল নিয়মিত আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে বিপিএলের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ ২০২৭ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে বিপিএল আয়োজনের সুযোগও সীমিত। বাস্তবতা বিবেচনায় মধ্য ডিসেম্বরের আগে বিপিএল শুরু করা সম্ভব নাও হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জানুয়ারিতে পিএসএল নিয়মিত হলে বিপিএল কিছুটা সমস্যায় পড়বে। তার মতে, বিপিএলকে আকর্ষণীয় করতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ক্রিকেটাররা কখন খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকবেন, সেটিও বিবেচনায় নিয়ে বিপিএলের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

এদিকে চলতি বছর বিপিএল আয়োজন না করে এক বছর বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে আয়োজন না করে লিগটিকে নতুনভাবে গুছিয়ে মাঠে ফেরাতে চান তারা। এরই মধ্যে এ নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির ভিত্তিতে বিপিএল পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জটিলতার কারণে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিসিবির কর্মকর্তারা। প্রতিটি লেনদেনে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত দেশীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপরই নির্ভর করতে হতে পারে। অবশ্য দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিপিএলের সময় নির্ধারণে ডিসেম্বরও খুব সুবিধাজনক নয়। বছরের শেষ মাসে দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা থাকে। ফলে মাঠে দর্শক উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন বাজেটও তুলনামূলক সীমিত থাকে। বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় তাই জানুয়ারিকেই বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ লিগের জন্য বেশি উপযোগী সময় হিসেবে দেখা হয়।

জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততাও তুলনামূলক কম থাকায় বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়ার সুযোগ থাকে বেশি। ফলে বিপিএলের জন্য জানুয়ারি স্লট ধরে রাখা এখন বিসিবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সেই স্লটে পিএসএল আয়োজনের বিষয়ে পিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে বিপিএলের ভবিষ্যৎ সময়সূচি।