প্রকাশিত: ০১ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৩৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। তার মতে, এই পরিবর্তন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি সংশোধন সেই আস্থারই প্রতিফলন।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক পরিবর্তন মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করবে।
বৈঠকে আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাংলাদেশে পুনরায় চালুর বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেন সার্জিও গর।
দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানালে বিশেষ দূত জানান, ডিএফসির সম্পৃক্ততা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি ঢাকায় একটি ‘ইউএস ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজনের উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম এবং কৃষিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থায় মার্কিন বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ দেশের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সার্জিও গর বলেন, ভবিষ্যতে দেশটি ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিশেষ দূত বাংলাদেশ সরকারের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশীদারদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম।
এ প্রসঙ্গে সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে শুধু মানবিক সহায়তা নয়, রাজনৈতিক উদ্যোগও জরুরি। তিনি আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।