প্রকাশিত: ০১ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে আলিফ এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল সহিংসতা ও কর্তৃত্ববাদ থেকে মুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ভয়ভীতির সংস্কৃতি ফিরে আসা দেশের জন্য অশনি সংকেত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাসপাতালে আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি আহত কিশোর ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হবিগঞ্জের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার শিকার ব্যক্তিদের মামলা করতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনের শাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারে বাধা দূর করা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে দেশে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা আমির আব্দুল আউয়াল আজম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের নেতা ডা. হাসান আল বান্না এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ উপস্থিত ছিলেন।