প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:৫৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে সেপ্টেম্বর মাসে LNG পুনঃগ্যাসীকরণ বাড়ায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। শিল্প খাতে সংকট কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে LNG পুনঃগ্যাসীকরণ বাড়ানোর ফলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের শিল্পখাত দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে। অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমে গেলে শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যয় বাড়ে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও ঝুঁকিতে পড়ে।
বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ৩৮০০ থেকে ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বাস্তবে সরবরাহ প্রায় ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ এবং আবাসিক—সব খাতেই চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণে LNG আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে LNG এনে তা পুনঃগ্যাসীকরণের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে LNG-এর দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশের ওপর আমদানি ব্যয়ের চাপও বাড়ে।
সেপ্টেম্বরের LNG আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিতে হতে পারে। দুটি LNG কার্গোর দাম প্রতি MMBtu ২৪ ডলারের বেশি হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এতে একদিকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলেও অন্যদিকে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শুধু LNG আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব শিল্প খাতে বিশেষভাবে স্পষ্ট। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম উৎপাদন করছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সেপ্টেম্বরে সরবরাহ বাড়লে শিল্পখাতে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—দাম বাড়লেও কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। কারণ শিল্প উৎপাদন বাড়াতে হলে শুধু গ্যাসের পরিমাণ নয়, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, LNG আমদানি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে হবে।
সেপ্টেম্বরের বাড়তি LNG সরবরাহ তাই স্বস্তির খবর হলেও এটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন ও আমদানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা।