এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ আগষ্ট ২০২৬ , ১০:১৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

এল নিনোর তীব্রতা বাড়ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় খরা ও তাপপ্রবাহের সতর্কতা ডব্লিউএমওর

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করেছে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কম বৃষ্টিপাত এবং খরার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল প্রকাশিত ডব্লিউএমওর সর্বশেষ জলবায়ু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। এর প্রভাব কৃষি উৎপাদন, পানিসম্পদের প্রাপ্যতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো এখন আর ভবিষ্যতের হুমকি নয়, এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। তার ভাষায়, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে আরও তীব্র করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি প্রকল্প বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী তিন মাসে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো বলেন, এল নিনোর আগাম পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোকে এখনই কার্যকর প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে বিজ্ঞানীদের ধারণা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো রেকর্ড মাত্রায় শক্তিশালী হতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত তীব্রতা সম্পর্কে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ডব্লিউএমও আরও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চলে একরকম হয় না। এর তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য জলবায়ুগত উপাদানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।