খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:১২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

শর্ত মানল আইসিসি: শাস্তি নেই বিসিবির

অবশেষে কাটল আইসিসি ও বিসিবির মধ্যকার দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর যে শাস্তির খড়্গ ঝুলছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যস্থতা এবং কিছু বিশেষ শর্ত মেনে নেওয়ার পর সোমবার দিবাগত রাতে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।

আইসিসি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিসিবির বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সংস্থাটির মতে, নিরপেক্ষতা ও বিবাদের বদলে সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে নিয়মানুযায়ী বিসিবি চাইলে ভবিষ্যতে 'ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটিতে' (ডিআরসি) যাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।

এই সমঝোতার বড় চমক হিসেবে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে এককভাবে আরও একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০৩১ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ আগে থেকেই নির্ধারিত। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বলেন, "বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের অনুপস্থিতি দুঃখজনক হলেও ক্রিকেট উন্নয়নে আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।"

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে। ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানায় বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি। এই ইস্যুটির সাথে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক টানাপোড়েন যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত পিসিবি শর্ত দেয় যে, বাংলাদেশের বিষয়টি সমাধান না হলে তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। রোববার লাহোরে ইমরান খাজা, মহসিন নকভি ও আমিনুল ইসলামের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেই মূলত বরফ গলতে শুরু করে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান যেমন সুরক্ষিত হলো, তেমনি আইসিসির সাথে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। মাঠের লড়াইয়ে সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটলেও কূটনৈতিক টেবিলে বিসিবির এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০৩১ সালের আগে নতুন ইভেন্ট পাওয়ার বিষয়টি দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো ও সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ করে দেবে।