এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৮:০৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে তাঁর অনুসরণে: ইমাম দেলোয়ার হোসাইন

মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)-এর প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ করলেই হবে না; তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সেই ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে। রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করেই দ্বীনের জন্য কাজ করতে হবে। আর দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে।

গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) সিটি লাইন চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চ্যাপ্টার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এবং আকরামুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন মুনার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর প্রফেসর ড. রুহুল আমিন, নিউইয়র্ক সাউথ জোনের পরিচালক ও সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মোশাররফ মাওলা সুজন, রুহুল আম্বিয়া সুমন প্রমুখ।

ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শুধু মুখে ভালোবাসেননি; তাঁরা নিজেদের জীবন, সম্পদ ও স্বার্থ ত্যাগ করে ভালোবাসার বাস্তব প্রমাণ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাহাবি সালমান ফারসি (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা তুলে ধরেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাক্ষাৎ ও সত্যের সন্ধানে সালমান ফারসি (রা.) দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন এবং দাসত্বের জীবনও বরণ করেন। অবশেষে তিনি রাসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমরা রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসার কথা বলি। কিন্তু আমাদের কাজে সেই ভালোবাসার কতটুকু প্রমাণ রয়েছে?” তিনি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ পালনে সাহাবারা নিজেদের প্রিয় জিনিসও ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি।

তিনি আরও বলেন, মুহাজিরদের প্রতি আনসার সাহাবাদের ভালোবাসা ও ত্যাগ ছিল অতুলনীয়। তাঁরা নিজেদের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা মুহাজির ভাইদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে সাহাবাদের জীবন আমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ।

খায়বর যুদ্ধের একটি ঘটনা উল্লেখ করে ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সাহাবায়ে কেরাম চরম অভাবের মধ্যেও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। গাধার গোশত রান্না করার পর খাওয়ার আগমুহূর্তে রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে তা নিষিদ্ধ হওয়ার খবর এলে তাঁরা খাবার গ্রহণ না করে তা ফেলে দেন। তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার অর্থ হলো তাঁর নির্দেশকে নিজের ইচ্ছার ওপর প্রাধান্য দেওয়া।

তিনি বলেন, “আমরা রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসি—এ কথা বলার পাশাপাশি তাঁর অনুসরণও করতে হবে। ভালোবাসা ও অনুসরণ—দুটিই আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করে দ্বীনের জন্য কাজ করেছেন, তিনিই সফল।”

মুনার দাওয়াতি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকার মাটিতে ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে; তাই সময় থাকতে দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রাসুল (সা.)-এর অনুসরণই একজন মুমিনের সফলতার অন্যতম প্রধান পথ।

প্রফেসর ড. রুহুল আমিন বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনের আগে গোটা পৃথিবীতে নৈতিক ও সামাজিক অন্ধকার নেমে এসেছিল। মানুষ কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ চলত এবং কাবা শরিফে শিরক ও মূর্তিপূজার প্রচলন ছিল। এমন এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনসহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন শ্রেষ্ঠ সেনাপতি, শ্রেষ্ঠ স্বামী, শ্রেষ্ঠ পিতা এবং শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক। তিনি সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও সবসময় আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করতেন। মানুষের হেদায়েতের জন্য তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। তাই কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে।

ড. রুহুল আমিন বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে জীবন পরিচালনা করতে হয়। তাঁর জীবন মানবতার জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাই তাঁর সীরাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমেরিকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ইসলাম সম্পর্কে অবগত নন। তাদের কাছে ইসলামের শান্তি, সৌন্দর্য ও মানবিকতার দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া মুসলমানদের দায়িত্ব। রাসুল (সা.) শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর দাওয়াতি কাজে খাদিজা (রা.) সাহস ও সহযোগিতা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধনের পাশাপাশি সমাজের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।

মাহফিলে বক্তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, সাহাবায়ে কেরামের আত্মত্যাগ এবং বর্তমান সময়ে ইসলামের দাওয়াতি কাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।