এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০৯:০০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত আবার তীব্র, নতুন করে হামলা-পাল্টাহামলা

কয়েক সপ্তাহের বিরতি ভেঙে দুই পক্ষের ব্যাপক সামরিক অভিযান; হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার জেরে বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের এই হামলা-পাল্টাহামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অভিযানে ইরানের আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক অবস্থান ও মিত্রদের স্থাপনায় পাল্টা হামলা করেছে। বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতা জারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে।

হরমুজকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা

সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র এখন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করে, যা আগের ১০ দিনের গড়ের তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছায়। বুধবারও বাজারে উত্তেজনা বজায় ছিল। নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজার ও বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে চাপ দেখা গেছে।

ইরানে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ

ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি হামলায় দেশটির সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পাঁচজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে তেহরান, তবে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের কথা নিশ্চিত করেনি।

কূটনৈতিক পথ আরও কঠিন

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও নতুন সামরিক সংঘাত সেই প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলেছে। সর্বশেষ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলেছে, নতুন হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় ফেরার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।