এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার জবাবে জর্ডান, বাহরাইন, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে গোটা অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার দাবি করলেও সাম্প্রতিক হামলা ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জর্ডান, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা প্রমাণ করে যে, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার পরও ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে হুমকির মুখে রাখার সামর্থ্যও তাদের রয়েছে।

এর আগে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ ও সিরিকসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হামলায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর স্পেশাল অপারেশন কমান্ড সেন্টার এবং রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে আকস্মিক হামলার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

ইরানের হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত পৃথক বিবৃতিতে এসব হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগও (এমডব্লিউএল) হামলার নিন্দা জানিয়ে আক্রান্ত দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।