এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১০:০৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বৈশ্বিক মূল্য দিচ্ছে বাংলাদেশও, ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যঝুঁকিতে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক সংকট নয়। এর অর্থনৈতিক অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতেও। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বে অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৪ লাখ শিশু অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও নতুন করে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউনিসেফের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন দ্য ইম্প্যাক্ট অব দ্য ওয়ার ইন দ্য মিডল ইস্ট অন চিলড্রেন ইন মনিট্যারিলি পুওর হাউজহোল্ডস-এ বিশ্বের ১৬৭টিরও বেশি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হলে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর শিশুরা, যাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মূল্য শুধু ওই অঞ্চলের শিশুরাই দিচ্ছে না, বিশ্বের বহু দূরের শিশুরাও এর নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের জন্য সন্তানদের পুষ্টি, শিক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাঝারি মাত্রার অর্থনৈতিক অভিঘাত দেখা দিলে বিশ্বে অতিরিক্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা আরও বিঘ্নিত হলে এই সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ৩৪ লাখে পৌঁছাতে পারে।

ইউনিসেফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন করে সৃষ্ট অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের প্রায় ৮০ শতাংশের প্রভাব পড়বে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে। এই দুই অঞ্চলে আগে থেকেই দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার অভিঘাত এখানে দ্রুত অনুভূত হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মুরগির দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও নাইজেরিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে দেখানো হয়েছে, সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কীভাবে মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। একই ধরনের বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকের অর্জন অনেকটাই পিছিয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে শিশুদের, যাদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপদ বেড়ে ওঠার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়বে।